মাদারীপুরের দুটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন নাদিরা আক্তার ও জাহানদার আলী

মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৮:৫৮ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার দুটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মাদারীপুর-১ আসন থেকে নাদিরা আক্তারকে আর মাদারীপুর-২ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জাহানদার আলী জাহানকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর ১ (শিবচর) থেকে প্রথমে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল কামাল জামান নুরুদ্দীন মোল্লাকে। শিবচরের একাধিক নেতা-কর্মী নুরুদ্দীন মোল্লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসাজস থাকার অভিযোগ তোলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি ছড়িয়ে পড়ে। 

এছাড়া শিবচরের একটি মন্দিরে বিএনপির এক মিটিংয়ে বক্তব্য শেষে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা নুরুদ্দীন মোল্লার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েও বন্ধ করে আন্দোলন করে। সবদিক বিবেচনা করে নুরুদ্দীন মোল্লার মনোনয়ন বাতিল করে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

এরপর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা দল ভারী করার যুদ্ধে নামে। শিবচরের প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম এমনকি মহল্লায় প্রচারণা চালিয়ে যায়। নুরুদ্দীন মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত করা হলেও থেমে থাকেননি তিনি। যেমন দৌড়ঝাঁপ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে তেমনি নিজের মনোনয়নের জন্য দোয়া এবং বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন উপজেলার প্রতিটি স্থানে।

অন্যদিকে আরেক মনোনয়ন প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে-ঘাটে দলবল নিয়ে প্রচারণায় দিন পার করেছেন। এই আসনের সবার মনেই একটি প্রশ্ন ছিল কে পাবেন এই আসনের মনোনয়ন। নুরুদ্দীন মোল্লা নাকি লাভলু চৌধুরী। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন দিয়েছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে। তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলার পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম মিঠু চৌধুরীর স্ত্রী।

অন্যদিকে, মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহানদার আলী জাহান। তিনি সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের সাবেক জিএস ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনে বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে তাকে মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে। এমনকি অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন। জেল খেটেছেন একাধিক সময়। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মুখে হাসি ফুটেছে। 

দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূল নেতাদের মতামত, সাংগঠনিক অবস্থান এবং জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে এ দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদারীপুরের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির মনোনয়ন। বিএনপি কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইএইচ