মাগুরার দুই সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড, তদন্তে নানা প্রশ্ন   

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা  প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মাগুরায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে দুটি সরকারি দপ্তরে। শনিবার ভোরে মাগুরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং মাগুরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। উভয় স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ধরন ও সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আলেপ মোল্লা জানান, খবর পেয়ে আমাদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভূমি অফিসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ৪টার দিকে এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৫টা ৪৫ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা দুটি ক্ষেত্রেই দাহ্য পদার্থ ব্যবহূত হয়েছে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, দুটি ঘটনাকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজসহ সব বিষয় আমরা পর্যালোচনা করছি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. আসমা আক্তার জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সার্টিফিকেট, সহকারী কর্মচারীর অমলের কক্ষে ঘটে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নেভায়। তদন্তের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হচ্ছে। ভূমি অফিসের ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা জানান, দরজা বন্ধ থাকলেও পেছনের জানালাটি খোলা ছিল। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অপরটি সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও আগুনে বেশ কিছু আসবাব ও কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ফ্রেশ কোম্পানির পানির বোতলে ভরা প্রায় ২ লিটার দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

কোন রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল এবং কীভাবে তা ছড়িয়েছে এসব বিষয় যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত কাজ করায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সব তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরীক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা বাসীকেও সতর্ক থাকতে হবে। 

তদন্ত যে প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে, দুটি সরকারি অফিসে কাছাকাছি সময়ে অগ্নিকাণ্ড। এটি কি কাকতালীয়, নাকি একই উদ্দেশ্যের অংশ? উদ্ধার করা দাহ্য পদার্থ কোথা থেকে এলো? কারা সেখানে তা নিয়ে যেতে পারে? ভূমি অফিসের পেছনের জানালা খোলা থাকার বিষয়টি কি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে? সিসিটিভি ফুটেজে কি কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কার্যক্রম চিহ্নিত হয়েছে? তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব আলামত পরীক্ষা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ,উদ্ধার হওয়া দাহ্য পদার্থ এবং অফিস দুটির ভেতরের অবস্থা মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আরও সময় লাগবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মন্তব্য করতে চাইছে না।

জেএইচআর