কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষদের দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে নানা রোগের ওষুধও বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ২৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফাত আহমেদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মাসহ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ফ্রি ক্যাম্পে মেডিসিন, গাইনি ও চর্মরোগ বিভাগ থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ ও কিশোরগঞ্জের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিম দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা দেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, "জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল বা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষজন উপকৃত হতে পারেন। স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
চিকিৎসা নিতে আসা রেজিয়া খাতুন বলেন, "টাকা-পয়সা নেই, ডাক্তার দেখাতে পারি না। আজ এখানে এসে ভালোভাবে চিকিৎসা পেলাম, ওষুধও দিলো। খুব উপকার হলো।" যুবক মাহিন মিয়া বলেন, "দীর্ঘদিনের চর্মরোগ নিয়ে ভুগছিলাম। ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছিল না। এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পেরে স্বস্তি লাগছে।" আরেক নারী রোগী সাবিনা আক্তার বলেন, "গাইনি সমস্যার জন্য ডাক্তার দেখাতে লজ্জা ও খরচ দুটোই বাধা ছিল। এখানে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসা নিতে পেরেছি। সেনাবাহিনী আর জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।"
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেছেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আগেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। এর আগে ইটনা উপজেলাতেও একই ধরনের ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ৫০০ জনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৫১৮ জনকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "আজকে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা আছে ১২০০ জনের কিন্তু মানুষের উপস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অনেক মানুষের পক্ষেই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না।"
আয়োজকদের ভাষ্য, দিনব্যাপী ক্যাম্পে প্রায় দেড় হাজার দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পুরো আয়োজন ঘিরে উপকারভোগীদের মধ্যে ছিল দৃশ্যমান স্বস্তি ও আনন্দ।
ইএইচ