ড. ওসমান ফারুকের মনোনয়ন বাতিলের দাবি

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১২, ২০২৫, ০৬:৫৪ পিএম

কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের মনোনয়ন বাতিল করে মনোনয়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।

শুক্রবার সকালে জেলা শহরের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি ঘোষিত প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল করে তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন, "গত ৩ নভেম্বর দলের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায় কিশোরগঞ্জ–৩ আসনে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর ৬ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসেন। ছয় দিন বিশ্রামের পর ১২ নভেম্বর করিমগঞ্জের নিজ বাড়িতে যান এবং তিন দিন অবস্থান করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন। এসময় বাড়িতে থেকেই তিনি উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে অনেক নেতাকর্মী তার শারীরিক, মানসিক ও স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা দেখে গভীরভাবে হতাশ হন।"

তিনি আরও বলেন, "চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে ড. ওসমান ফারুকের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা জনসম্মুখে প্রকাশ পেতে পারে, যা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। এতে বিএনপির প্রার্থীর ভোট কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।" তার ভাষ্য, ড. এম ওসমান ফারুক বর্তমানে ৮৭ বছর বয়সী এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি। বয়সজনিত কারণে তিনি ডিমেনসিয়ায় ভুগছেন এবং একা চলাফেরা করতে পারেন না।

জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা অভিযোগ করেন, "মনোনয়ন ঘোষণার এক মাস ১০ দিন পার হলেও ড. ওসমান ফারুক মাত্র ছয় দিন এলাকায় ছিলেন। এরপর আর কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা তিনি করেননি। এতে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সর্বত্রই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।"

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফীউজ্জামান শফীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ইএইচ