বিজয় মেলার নামে লালপুরে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৩:১৭ পিএম

নাটোরের লালপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় মেলার পিঠা স্টলকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। একে রাষ্ট্রীয় উৎসবের নামে ‘প্রশাসনিক চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস সুলতানা এই অর্থ আদায়ের দায় এড়িয়ে দাবি করেছেন যে, শিক্ষকদের সম্মতিক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষকরা তার এই বক্তব্যকে অসত্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষা অফিসারের অধীনে চাকরি করার কারণে হয়রানি ও বদলির ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পান না, তবে বাস্তবে তার নির্দেশেই এই চাঁদা আদায় করা হয়েছে।

এসব অনিয়মের পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসে ‘বুলবুলি’ নামের এক নিয়োগবিহীন নারীকে অফিস সহায়ক হিসেবে রাখার বিষয়েও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। 

শিক্ষকদের অভিযোগ, ওই নারীর বেতন মেটানো হয় উপজেলার বিদ্যালয়গুলো থেকে তোলা মাসিক চাঁদার টাকায়, যা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত। 

শিক্ষা অফিসার এই অনিয়মের কথা স্বীকার করে জানান, তিনি আসার আগে থেকেই ওই নারী কর্মরত আছেন এবং তারা ব্যক্তিগতভাবে তাকে কিছু সহায়তা করেন। তবে সরকারি অফিসে বছরের পর বছর কীভাবে নিয়োগহীন কেউ কাজ করছেন এবং তার দায়ভার কেন শিক্ষকদের বহন করতে হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

এ বিষয়ে নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, লালপুরের শিক্ষা অফিসার পিঠা উৎসবের নামে ২০০ টাকা এবং উপজেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়কের বেতন বাবদ স্কুলপ্রতি ১৫০ টাকা কোনোভাবেই নিতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত কাজ এবং আমি এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিজয় দিবসের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের ওপর এমন অনৈতিক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা মহলে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সচেতন শিক্ষক সমাজ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

ইএইচ