নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা উপজেলার চৈতাবা এলাকায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্ক। প্রায় ৬০ একর বিস্তীর্ণ জমির উপর নির্মিত এই পার্কটি আজ নরসিংদীর গণ্ডি পেরিয়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এক অনন্য বিনোদন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পরিবার, বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট গ্রুপ কিংবা পর্যটক সবার জন্যই এটি একটি সম্পূর্ণ বিনোদনের প্যাকেজ।
ড্রিম হলিডে পার্কে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সুবিশাল ও পরিকল্পিত অবকাঠামো, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আধুনিক বিনোদনের নানা উপকরণ। মূল গেটে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। এই টিকিটের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সাফারি পার্কে প্রবেশের সুযোগ, যা আলাদাভাবে টিকিট কাটার ঝামেলা থেকে দর্শনার্থীদের মুক্তি দেয়।
ড্রিম হলিডে পার্কের প্রধান আকর্ষণ এর অসংখ্য আধুনিক ও রোমাঞ্চকর রাইড। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে রোলার কোস্টার, জেড ফাইটার, স্পেসশিপ, বুলেট ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল ও বুল রাইডের মতো উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এসব রাইড তরুণদের পাশাপাশি সাহসী দর্শনার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।
পরিবার ও শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা ও নিরাপদ ফ্যামিলি রাইড। সোয়ান বোট, স্পিডবোট, বাম্পার কার, রকিং হর্স, সুইং কারসহ নানা ধরনের রাইড ছোট-বড় সবার মুখে হাসি ফোটায়। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় খেলাধুলার প্যাকেজ, যেখানে নিরাপত্তা ও আনন্দ দুটিই সমানভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ড্রিম হলিডে পার্কের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এর আধুনিক ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ওয়েভ পুল, যেখানে কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার স্লাইড, রেইনবো ওয়াটার অ্যামব্রেলা এবং শিশুদের জন্য আলাদা পানির খেলার ব্যবস্থা।
গরমের দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ওয়াটার পার্কে সময় কাটানো দর্শনার্থীদের জন্য এক ভিন্নমাত্রার স্বস্তি ও আনন্দ নিয়ে আসে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে।
ড্রিম হলিডে পার্কের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে একটি মনোরম সাফারি পার্ক। এখানে দর্শনার্থীরা প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে বিভিন্ন প্রাণী ও পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি। এছাড়া কৃত্রিম পাহাড়, সবুজ বাগান ও জলাশয় পার্কের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পার্কে বিনোদনের পাশাপাশি রয়েছে ভূতের বাড়ি, ৯ডি মুভি ও কাইটিং-এর মতো আলাদা আকর্ষণ, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করে। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সবাই এসব আকর্ষণে দারুণ উপভোগের সুযোগ পান।
ড্রিম হলিডে পার্কে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে রয়েছে বিভিন্ন মানসম্মত রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকান। দেশীয় ও ফাস্টফুডসহ নানা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা থাকায় দীর্ঘ সময় পার্কে অবস্থান করলেও খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পাশাপাশি কেনাকাটার জন্য রয়েছে বিভিন্ন শপ।
যারা একদিনের বেশি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে এসি কটেজ ও বাংলোর ব্যবস্থা। এখানে রাতযাপন ও থাকার সুব্যবস্থা থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।
ড্রিম হলিডে পার্ক বর্তমানে পিকনিক ও করপোরেট ইভেন্ট আয়োজনের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। এখানে ১০০ থেকে ১০০০ জনের জন্য আলাদা আলাদা পিকনিক স্পট ভাড়া নেওয়া যায়। সুযোগ-সুবিধা ও জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে পিকনিক স্পটের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া কনসার্ট, মিটিং, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেট প্রোগ্রামের জন্য রয়েছে বড় পরিসরের খোলা জায়গা।
ড্রিম হলিডে পার্কে প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের জন্য রয়েছে ব্রেস্ট ফিডিং রুম, যা একটি পরিবারবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে। এসব সুবিধা পার্কটির সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পার্কটি ইতোমধ্যেই টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্টের শুটিং স্পট হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুটিংয়ের জন্য আলাদা লোকেশন ও সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকায় নির্মাতাদের কাছে এটি একটি আদর্শ স্থান।
ড্রিম হলিডে পার্কের এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছেন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা। তার একক নেতৃত্ব, সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে নরসিংদীর মাটিতে গড়ে উঠেছে এই আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পার্ক পরিদর্শন করে সেখানকার আধুনিক চিন্তা ও ধারণা কাজে লাগিয়ে তিনি ড্রিম হলিডে পার্ককে একটি স্বপ্নের বিনোদন কেন্দ্রে রূপ দিয়েছেন।
স্থানীয় এক সিনিয়র সাংবাদিক জানান, এত বড় একটি প্রকল্প গড়ে তুলতে গিয়ে তিনি কারো সঙ্গে অন্যায় করেননি। বরং ন্যায্য ও উচ্চমূল্যে জমি ক্রয় করেই এই পার্ক গড়ে তুলেছেন। এলাকাবাসীর মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম ব্যাপক।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা ড্রিম হলিডে পার্ক নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। একজন বিনোদনপ্রেমী বলেন, বিদেশের অনেক পার্ক ঘুরেছি, কিন্তু নিজের দেশের নরসিংদীতে এমন একটি পার্ক না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
স্বপ্ন, সাহস ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ড্রিম হলিডে পার্ক আজ শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং নরসিংদীর গর্ব। বাংলাদেশের পর্যটন ও বিনোদন শিল্পে এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য ড্রিম হলিডে পার্ক ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছে এক অনন্য ঠিকানা।
জেএইচআর