ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ আগুনে পোড়ানোর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ নগরী।
বুধবার বিকেলে নগরীর ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘ময়মনসিংহ হিন্দু মহাজোট’ ও ‘সচেতন সনাতনী সমাজ’ এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ময়মনসিংহ হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নিপেশ চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. এন সি পালসহ সনাতনী সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, "গুজব ছড়িয়ে একজন নিরপরাধ মানুষকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।" অনতিবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সমাবেশে নিহত দীপুর প্রতিবেশী লিমন দেবনাথ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "দীপু ছিল তার দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও অবুঝ শিশু সন্তানসহ পুরো পরিবারটি আজ পথে বসেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার কে করবে?"
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের অভিযানে ইতোমধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তে ধর্ম অবমাননার কোনো প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইএইচ