বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি রক্ষায় ৬ দফা দাবি: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দিনাজপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে খনির শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন। 

সোমবার বেলা ১১টায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সিবিএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার। 

সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের একমাত্র লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত এই খনিকে পরিকল্পিতভাবে লোকসানি দেখিয়ে বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে।

শ্রমিক নেতারা জানান, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে সচল না থাকায় কোল ইয়ার্ডে কয়লার পাহাড় জমেছে। ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। যা নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে হাইওয়ে সড়ক বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ লোকাল মার্কেটে কয়লার ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কেবল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তা বিক্রি করা যাচ্ছে না।

বক্তারা আরও বলেন, খনির প্রতি টন কয়লা উৎপাদনে ব্যয় হয় ১৭৬ ডলার, কিন্তু পিডিবি পরিশোধ করছে মাত্র ৯১-১০৭ ডলার। যেখানে খোলা বাজারে এই কয়লা ২০০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি সম্ভব, সেখানে কম দামে কয়লা নিয়ে খনিকে লোকসানি প্রজেক্ট বানানোর চেষ্টা চলছে।

শ্রমিকদের ৬ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, লোকাল মার্কেটে কয়লা বিক্রির অনুমতি প্রদান। লোকাল মার্কেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পিডিবির কয়লার মূল্য নির্ধারণ। বড়পুকুরিয়া খনির বোর্ড থেকে পিডিবি-র আধিপত্য কমানো। অযৌক্তিকভাবে দাম কমিয়ে খনি বন্ধের চক্রান্ত বন্ধ করা। কয়লার দাম নির্ধারণে শ্রমিকদের মতামত গ্রহণ এবং খনি সচল রাখার নিশ্চয়তা প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই খনি বন্ধ হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ২৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে দাবি মানা না হলে রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ইএইচ