রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’ কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (পিএমএ), টাঙ্গাইল। একইসঙ্গে দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন, টাঙ্গাইলের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সংবাদপত্রের কার্যালয়ে মব সৃষ্টি করে এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা কেবল মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর আঘাত নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য এক চরম হুমকি। তারা উল্লেখ করেন, জনমত তৈরির প্রধান মাধ্যম হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়েরই সাংবিধানিক দায়িত্ব। মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার স্থানে এ ধরনের সহিংসতা মুক্তচিন্তা ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে চরম অন্তরায়। একটি সভ্য সমাজে শিল্পীদের সৃজনশীল কাজের ওপর আক্রমণ কোনো বিচারেই মেনে নেওয়া যায় না।
পিএমএ নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যদি কোনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় নীতি নিয়ে কারো দ্বিমত থাকে, তবে তা আইনগতভাবে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে কার্যালয়ে আগুন দেওয়া এবং কর্মীদের জীবন বিপন্ন করা স্পষ্টত একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
সংগঠনটি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতির শেষে বলা হয়, ভয়ভীতি বা হামলা চালিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা এবং শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই সংকটে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন, টাঙ্গাইল ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
জেএইচআর