সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টায় শহরের খালপাড় এলাকায় ভাষা শহীদ রফিক চত্বরে মানিকগঞ্জ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির (টিআরইউ) উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
টিআরইউর সভাপতি বি.এম খোরশেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর ধারাবাহিক হামলাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তব্য প্রদানকালে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু বলেন, “গণমাধ্যমকে ধ্বংস করে কোনো রাষ্ট্র বা গণতন্ত্র এগোতে পারে না। অতীতে সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আমরা চাই গণমাধ্যমের ওপর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ হোক।”
সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, “সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা মানেই স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এসব হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
সাংবাদিক বিপ্লব চক্রবর্তী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন, অথচ একটি গোষ্ঠী দেশি-বিদেশি মহলে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে। এদের ইন্ধনদাতা কারা, তা সরকারের অজানা নয়। সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।”
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকদের পেশাগত জীবনের ঝুঁকি কমেনি। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবিলম্বে সারা দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যমে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ইএইচ