ব্যবসায়ীকে আ.লীগের দোসর সাজিয়ে দোকানে তালা, চাঁদা দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৫:৫৪ পিএম

পটুয়াখালীতে এক ব্যবসায়ীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির নেতা শাহিন গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম জেলা বিএনপির একাধিক নেতার কাছে মৌখিক অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে শাহিন গাজী তার মুঠোফোনে কল করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ঢাকায় আয়োজিত সমাবেশে অংশগ্রহণের যাতায়াত ব্যয় বাবদ তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অসুস্থতার কথা জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোন কেটে দেয় ।

ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমি আওয়ামী লীগসহ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবুও এর আগেও আমাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে একই ব্যক্তিরা হুমকি দিয়েছে।

স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তৌহিদুল ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। এটি মূলত ব্যক্তিগত চাঁদাবাজির ঘটনা বলে তারা মনে করছেন।

তৌহিদুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলা শহরের কলাতলা হাউজিং স্টেট এলাকায়। গত শুক্রবার তার বাড়ির পাশের জমিতে নির্মিত দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হেপাটাইটিস-বি রোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শাহিন গাজী বলেন, তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থীদের বাসায় আশ্রয়, মিটিং এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। এ কারণেই তার দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সদর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। অন্যায়ভাবে কারো দোকানে তালা দেওয়া আইনসম্মত নয়। এ ধরনের ঘটনায় আমাকে জানানোর প্রশ্নই ওঠে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায় করে, তাহলে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর