হলুদে ছেয়ে গেছে মধুপুর, সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০২:৩৩ পিএম

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলদে আভায় উজ্জ্বল। যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদের সমারোহ আর মৌমাছির গুঞ্জন। শীতের মিঠে রোদে সরিষার এই চোখজুড়ানো দৃশ্য দেখতে যেমন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা, তেমনি বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বুক বাঁধছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো পরিচর্যায় এবার উপজেলায় সরিষার রেকর্ড পরিমাণ আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধুপুরে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে। 

শুরুতে কিছু এলাকায় পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এখন প্রতিটি গাছে ফুলের প্রাচুর্য দেখে ভালো ফলনের বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট সবাই।

সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেত পরিচর্যায়।

পৌর এলাকার আকাশী গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে সরিষা বুনেছেন। ফলন ভালো হলে বাড়তি আয়ের এই টাকা দিয়ে তিনি বোরো চাষের খরচ মেটাতে পারবেন। কামারচালা গ্রামের আরেক চাষি অলি উল্লাহ ১০ বিঘা জমিতে সরিষা বুনেছেন। 

তিনি জানান, ভোজ্য তেলের দাম চড়া থাকায় পরিবারের চাহিদা মেটানো এবং বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এবার বড় পরিসরে আবাদ করেছেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রকিব আল রানা বলেন, উপজেলায় এবার সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল না হলে প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৬ মণ ফলন পাওয়া যাবে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। এই সরিষা ঘরে তুলে কৃষকেরা অনায়াসেই ইরি-বোরো ধান রোপণ করতে পারবেন, যা তাঁদের বাড়তি আর্থিক সচ্ছলতা দেবে।

ইএইচ