ফরিদপুর-১ আসনে এক ইউনিয়নেরই তিন এমপি প্রার্থী

ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে বোয়ালমারী উপজেলার একই ইউনিয়নের তিন জন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্যসহ একই গ্রামের দুই বাসিন্দা। 

তাদের মধ্যে দুই জন পৃথক রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং এক জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

সোমবার তিন প্রার্থীই নির্বাচনে ভোটযুদ্ধের লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। 

প্রার্থীরা হলেন, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ফরিদপুর-১ আসনের চার বারের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শরাফাত এবং পার্শ্ববর্তী রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলার আহ্বায়ক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনের আয়তন ৬৩০ দশমিক ৪৫ বর্গকিলোমিটার। 

এ আসনে মোট জনসংখ্যা ৬ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৮ জন। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে নারী ২ লাখ ৫০ হাজার ৯৩০ জন, পুরুষ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক জন ভোটার রয়েছেন। এবার এ আসনে নতুন ভোটার বেড়েছে ৫ হাজার ৯১৯ জন।

চতুল ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট গাজী শাহীদুজ্জামান লিটন বলেন, “চতুল ইউনিয়নে সব সময় সব ক্ষেত্রে যোগ্য লোকের সংখ্যা বেশি। এবার সংসদ নির্বাচনে আমাদের ইউনিয়ন থেকে তিন জন নেতা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এটা আমাদের ইউনিয়ন তথা এলাকার সৌভাগ্য।”

চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সর্বক্ষেত্রে অনেক গুণী মানুষ রয়েছেন। এ ইউনিয়ন থেকে এবার পাঁচ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন, তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্যসহ তিন জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এক জন চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এতে গর্বিত।”

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, “ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি আমার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লড়াই নয়, বরং ইনসাফ, ন্যায় আর এই জনপদের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। বহু বছর ধরে এ আসনের মানুষ শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে, কিন্তু কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য সম্মান পায়নি। সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই আমার এই সিদ্ধান্ত। ভয় নয় ন্যায়, দয়া নয় অধিকার এবং দানের রাজনীতি নয় কর্মসংস্থানের রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ শরাফাতের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, “আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। দশ বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে চার বার বিজয়ী হয়েছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের সুখে-দুখে পাশে থেকেছি, এখনো আছি। আমৃত্যু মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই।”

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-১ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি), মো. ইলিয়াস মোল্লা (জামায়াত), শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট), মৃন্ময় কান্তি দাস (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি), মো. হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর (স্বতন্ত্র), সুলতান আহমেদ খান (জাতীয় পার্টি), মুহাম্মদ খালেদ বিন নাছের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মোহাম্মদ শরাফাত (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু (স্বতন্ত্র), মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলন (স্বতন্ত্র), মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র), মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ (স্বতন্ত্র), লায়লা আরজুমান বানু (স্বতন্ত্র), মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) ও মো. আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র)।

ইএইচ