ময়মনসিংহে দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

২০২৬ ইংরেজি নববর্ষের সকালে ময়মনসিংহ সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চর এলাকা থেকে তোলা ছবিতে ধরা পড়েছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। শীতের শিশির ভেজা কুয়াশার চাদর সরিয়ে দুপুরের রোদে দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সরিষা ফুলের চোখ ধাঁধানো হলুদ আভা।

ময়মনসিংহ জেলার বিস্তীর্ণ মাঠের পর মাঠ এখন যেন হলুদ বর্ণে মোড়া এক স্বপ্নীল পৃথিবী। সবুজ সরিষা গাছের ডগায় ডগায় দোল খাওয়া হলুদ ফুল শীতের সোনালি রোদে ঝিকিমিকি করছে। বসন্তের আগমনী বার্তা পেয়েই যেন প্রকৃতি কন্যা সেজেছে গায়ে হলুদ বরণের সাজে। চারপাশের প্রান্তরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত বিনাসরিষা-১১ ও বিনাসরিষা-১২ জাতের সরিষায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার প্রায় প্রতিটি মাঠেই এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের বর্ণিল সমারোহ চোখে পড়ছে। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে বেড়ানো প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বিনার ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের ফার্ম ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. সাইদুল ইসলাম জানান, বোরো ধান কর্তনের আগেই সরিষা আবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান ড. মো. ইব্রাহিম খলিল (সিএসও) বলেন, “তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, রাজস্ব ও বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের সহায়তায় কৃষক পর্যায়ে ডিএই এবং বিনার ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বিনা উদ্ভাবিত বিনাসরিষা-১১ ও বিনাসরিষা-১২ জাতের এই বাম্পার ফলন দেশের ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

ইএইচ