রাজশাহীর তানোর উপজেলায় দিগন্তজুড়ে আলুর সবুজ সমারোহ দেখা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। সেচ দেওয়া ও রোগবালাই দমনে কীটনাশক স্প্রে সব মিলিয়ে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই চাষিদের।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আলুখেত ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পুরো মাঠ সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে, আবার কোথাও নতুন করে আলুর গাছ গজিয়ে উঠছে। এতে আলু চাষিদের চোখেমুখে স্বস্তির ঝিলিক ফুটে উঠেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আলু চাষের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ডিএপি ও পটাশ সারের সংকট। আলু রোপণের উপযুক্ত সময়ে সার না পাওয়ায় অনেক কৃষককে দেরিতে আলু রোপণ করতে হয়েছে।
তানোর পৌর সদরের গুবিরপাড়া গ্রামের খ্যাতনামা আলু চাষি কিতাব বলেন, "গত বছর শুধু পটাশ সারের সংকটের কারণে বেশি জমিতে আলু চাষ করতে পারিনি। মাত্র ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। এবার আগে থেকেই সার ও বীজ সংগ্রহ করে ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি।"
তিনি আরও জানান, বাইরে থেকে বেশি দামে পটাশ ও ডিএপি সার কিনে আলু চাষ করতে হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ও দাম—দুটোই ভালো পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
আলু চাষি ছারুয়ার জাহান জানান, গত বছর ঋণের টাকায় জমি টেন্ডার নিয়ে ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছিল। এবারও একই পরিমাণ জমিতে আলু রোপণ করেছেন। তবে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হওয়ায় দামের বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে।
তানোর পৌর সদরের ধানতৈর গ্রামের আলু চাষি ইউসুফ বলেন, "গত বছর ২০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে বড় অঙ্কের লোকসান করেছি। এ বছর ঝুঁকি কমাতে ১২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি।" একই গ্রামের কৃষক জসিম জানান, গত মৌসুমে ৮০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এবারও তিনি একই পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করছেন।
কৃষক শাওন বলেন, "গত বছর ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এবার ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। তবে আলুর দাম নিয়ে ভেতরে ভেতরে শঙ্কা কাজ করছে।"
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আলুখেতে ইতোমধ্যে সবুজ গাছ গজিয়ে উঠেছে এবং কৃষকরা নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গত মৌসুমে তানোর উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর কম।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সঠিক সময়ে আলু রোপণ করতে পেরেছেন। যতই আলু চাষ হোক না কেন, এ বছর কৃষকদের লোকসান হবে না বলে আমরা আশাবাদী।
ইএইডচ