নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস রিপন হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত চুরির ঘটনা আড়াল করতেই আহত রিপনকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৩ জানুয়ারি সকালে কেন্দুয়া উপজেলার বিদ্যাবল্লভ গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে দুই হাত পোড়া ও গলাকাটা অবস্থায় রিপন মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রিপন পার্শ্ববর্তী কালেঙ্গা মাইজপাড়া গ্রামের মৌলা মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পুলিশ। নিহতের ভাই সুজন মিয়ার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে বিদ্যাবল্লভ গ্রাম থেকে মো. রাকিব মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাকিব আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী গত ২ জানুয়ারি রাতে রিপন ও রাকিবসহ কয়েকজন বিদ্যাবল্লভ গ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে যান।
চুরি করার সময় রিপন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং তাঁর দুই হাত পুড়ে যায়। ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে এবং নিজেদের বাঁচাতে রাকিব ও তার সহযোগীরা আহত রিপনকে ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরে নিয়ে যান। সসেখানে রিপনকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে তারা পালিয়ে যান।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাকিবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেএইচআর