শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা তৈরির সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শক্তিশালী এই বিস্ফোরণে নিহতের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে।
এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের পরিচয় গোপন রেখে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দির সাগর বেপারীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে এখনো শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এলাকায় এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আজ ভোরে কুদ্দুস বেপারীর স্বজন সাগর বেপারীর নবনির্মিত বসতঘরে বসে একদল লোক বোমা তৈরি করছিল।
এ সময় আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটলে দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসীরা নিহতের মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি পেঁয়াজ ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
বসতঘরের মালিক সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম জানান, তার স্বামী ভ্যানচালক। মানুষের সহযোগিতায় ঘরটি নির্মাণ করলেও তারা এখনো সেখানে থাকা শুরু করেননি। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালাও দেওয়া হতো না। ভোরে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙলে তিনি বিস্ফোরণের বিষয়টি জানতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ‘বোমার এলাকা’ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর অভিযানের অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, বোমা বানাতে গিয়ে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হাসান বলেন, "বিলাশপুর এলাকায় বোমা বানাতে গিয়ে একজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। আহতদের সন্ধানে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এএন