যৌথবাহিনীর অভিযান: আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী।

শুক্রবার ভোর থেকে পরিচালিত এই অভিযানে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ককটেল ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাঁচ সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবার ভোর থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা খালিয়ারচর, মধ্যার চর ও কদমির চরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘিরে ফেলেন। যৌথবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বাড়িগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালায়। 

অভিযানে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, ৫ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, ৮টি ককটেল, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা জব্দ করা হয়। 

এছাড়া ৩৮৮টি টেঁটা, ১৩টি বড় ছোরা, ৭টি দা, ২টি কুড়াল, ৬টি ছোট ছোরা, ৭টি চাপাতি, ৬টি হকিস্টিক ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বড় টর্চলাইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, তল্লাশি চালানো বাড়িগুলো হচ্ছে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসেন, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালামত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা জয়নাল, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহির রহমান ও সাবেক যুবলীগ নেতা সাত্তারের বাড়িসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত নেতা-কর্মীদের বাড়ি। এ সময় মোহাম্মদ স্বপন, পারভেজ, মতিন, জাকির ও রিংকু মিয়া নামে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো করেন।

শুক্রবার দুপুরে ওই স্কুল প্রাঙ্গণে ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্ট অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। 

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য শুক্রবার ভোর থেকে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য ও থানা পুলিশের ১০ জন সদস্যকে নিয়ে এই অভিযান চালানো হয়। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ডাকাত ও চাঁদাবাজদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের খোয়া যাওয়া পিস্তল ও গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ইএইচ