রংপুরে রেকটিফাইড স্পিরিট পানে প্রাণ গেল ৩ জনের। পরে পুলিশ জয়নুল আবেদীন নামের এক মাদক কারবারিকে ১০ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করে।
সোমবার সকালে জেলার বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার পৃথক স্থানে তারা মারা যান।
নিহতরা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া (৩০), আলমগীর হোসেন (৪০) এবং সদর উপজেলার শ্যামপুর শাহ পাড়ার জেনতার আলী (৪১)। এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে স্পিরিট পান করে তিনজনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেন। পরে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত ব্যক্তিদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজনের মধ্যে রোববার রাত ১০টার দিকে সোহেল বাড়িতে এবং আলমগীরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। জেনতার আলী তার নিজ বাড়ি শ্যামপুর শাহপাড়ায় মারা যান।
সোহেলের স্ত্রী মোরশেদা বেগম বলেন, রোববার সকালে স্বামী ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বিকেলে বাসায় ফিরে সন্ধ্যার দিকে আবার বের হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকদের ডাকা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এলাকায় সব ধরনের মাদকের কারবার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ও সদর থানার ওসি আব্দুল গফুর বলেন, রংপুর আজাদ হোমিও হলের রেকটিফাইড স্পিরিটে ওই ৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
ওসি আরও জানান, পুলিশ মাদকসেবীদের বাড়িতে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অপরদিকে দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনকে ১০ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করে।
ইএইচ