শ্রীপুরে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতি ও টিকিট বিতরণ উদ্বোধন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

দীর্ঘ তিন বছরের আন্দোলন ও দাবির পর অবশেষে গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতিসহ টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। 

রোববার সকাল থেকে টিকিট বিক্রি শুরুকে কেন্দ্র করে শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান সড়কে আনন্দ র‍্যালি, স্টেশন এলাকায় ব্যান্ডপার্টিসহ উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

টিকিট বিক্রির এ আয়োজন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক–শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বেলা ১১টায় আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা বিরতি বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা বিরতি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী তপন বণিক বলেন, প্রায় তিন বছর আগে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ ও ট্রেনযাত্রীদের নিয়ে শ্রীপুর স্টেশনে দুই দফা রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। অবশেষে রেল বিভাগ তাদের দাবি মেনে নেয়। 

রোববার সকাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, শ্রীপুর ট্যুরিজম বাইকার্স যুব উন্নয়ন সংঘ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে একাধিকবার মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালন করা হয়। 

গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের ফলে রেল বিভাগ দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়। এতে করে তিন বছরের দুর্ভোগ ও আন্দোলনের অবসান ঘটেছে।

স্পেশাল রেসপন্স টিম এসআরটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ বলেন, শ্রীপুর থেকে সড়কপথে ঢাকায় যেতে স্বাভাবিক সময়ে দুই ঘণ্টা লাগলেও যানজটের কারণে তা চার ঘণ্টার বেশি সময় নেয়। অথচ ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে মাত্র এক ঘণ্টায় কমলাপুর পৌঁছানো সম্ভব, যা যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। 

শ্রীপুর ট্যুরিজম বাইকার্স যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন জনস্বার্থে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের দাপ্তরিক অনুমোদন পাওয়া জনগণের ঐক্যেরই প্রমাণ। 

শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, শিল্প অধ্যুষিত শ্রীপুর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ও ময়মনসিংহে যাতায়াত করেন। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলপথ ব্যবহারে সময় ও ভোগান্তি কমবে। সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি চালু হলে সরকারও বাড়তি রাজস্ব পাবে।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, রবিবার থেকেই ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও টিকিট বিক্রির অনুমোদন কার্যকর হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে রাত ৮টায় শ্রীপুরে পৌঁছায়। শ্রীপুর–কমলাপুর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা। বর্তমানে নির্ধারিত সিটসহ ১০টি টিকিটের অনুমোদন থাকলেও প্রথম দিনেই স্ট্যান্ডিংসহ মোট ৭১টি টিকিট বিক্রি হয়। 

প্রসঙ্গত, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শ্রীপুর স্টেশনে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতি চালু থাকলেও টিকিট বিক্রির অনুমোদন সীমিত ছিল। যাত্রীর তুলনায় টিকিট সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় নিয়মিত যাত্রীরা টিকিট সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।

ইএইচ