মাগুরায় সরকারি ‘পার্টনার-ডিএএম’ প্রকল্পের প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুপুরে মাগুরা সদরের ‘ড্রিম মাশরুম ভ্যালি’ কার্যালয়ে দুদকের একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের মূল কারণ বিশ্বব্যাংক ও সরকারের অর্থায়নে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে পিকনিকের নামে অর্থ আদায়, নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তায় ব্যাপক গরমিলের অভিযোগ ওঠে। এসব অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দুদক নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাঠে নামে।
অনিয়মের পাহাড় প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, ১২ দিনের প্রশিক্ষণ ১১ দিনেই শেষ করা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে তাদের ঝিনাইদহে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যাগ, এপ্রোন ও টি-শার্টের মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি প্রশিক্ষক ছাড়াই অনেক ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামও প্রশিক্ষণের মান নিয়ে অসংগতির কথা স্বীকার করেছেন।
মালিক বাবুলের ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘ড্রিম মাশরুম ভ্যালি’-এর মালিক বাবুলের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক এক আনসার সদস্যের ছেলে হয়ে বাবুল অল্প সময়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে তিনি এই বিত্ত-বৈভব গড়েছেন কি না, তা তদন্তের দাবি উঠেছে।
দুদকের অবস্থান অভিযানকালে দুদক দল প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। প্রকল্পের ৭৬০ কোটি টাকার বরাদ্দের অংশ মাগুরায় সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না এবং বাবুলের সম্পদের উৎস কী তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জেএইচআর