বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমাদের দল বিএনপি গণভোটে প্রথমে রাজি হয়নি। বিএনপি রাজি না হলে দেখা গেল নির্বাচনই হবে না। তাই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে। সুতরাং আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।
বুধবার বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার মদন মোহন জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণভোটে সংবিধান সংশোধন হবে, যেটা একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা করতে পারে। আর এখানে ঢাকার একটা এলিট গোষ্ঠী জনগণের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশ এখনও এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়।
মেজর (অব.) হাফিজ আরও বলেন, ‘গণভোট দিতে পারে সব দল একত্রিত হয়ে। কোনো কোনো দেশে আছে, সংবিধানের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে পরিবর্তনের জন্য গণভোট দেওয়া হয়। সেটি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা করতে পারে। এভাবে বিদেশ থেকে এসে রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ততা নেই, জনগণের জন্য কোনো স্যাক্রিফাইস নেই, জাস্ট ঘটনাচক্রে চেয়ারে আসীন হয়ে এখন একটা গণভোট চালিয়ে দিল। এই গণভোটের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই, তবে নৈতিক ভিত্তি আছে। যেহেতু জুলাই অভ্যুত্থানকে আমরা সমর্থন করি, সেহেতু আমরা হ্যাঁ ভোটের জন্য জনগণকে বলব।’
একটি ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে একজনও নারী প্রার্থী নেই উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ বলেন, এ ধরনের রাজনীতি জনগণের মধ্যে আগেই বিভাজন সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কোনো অভিজ্ঞতাও নেই।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, আমাদের জাতীয়তাবাদী দলের প্রতীক ধানের শীষ— এটি বাংলাদেশের জনগণের অত্যন্ত প্রিয় একটি প্রতীক। ইনশাআল্লাহ, কাল (আজ) থেকেই আমরা গ্রামেগঞ্জে এই প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করব। বিএনপির আদর্শ ও ঐতিহ্য মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে সভা-সমাবেশে অংশ নেব।
মদন মোহন মন্দিরের সভাপতি নীরব কুমার দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন– উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, লালমোহন পৌর বিএনপির সভাপতি ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটওয়ারী প্রমুখ।
এএন