আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার-প্রচারণা জোরদার হওয়ায় ভোটের মাঠে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও বর্তমানে তিন প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে এবার মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির আব্দুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর মোহাম্মদ এমরান (সিংহ) এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মো. মুজিবুর রহমান চৌং (ট্রাক)।
আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৮৭৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬২ জন।
আনোয়ারা উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ৮০৭ জন। অপরদিকে কর্ণফুলী উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭০ হাজার ৮৯০ জন এবং নারী ভোটার ৬৩ হাজার ৩৫৫ জন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানান, আনোয়ারা উপজেলায় বিএনপির ভেতরে কিছু মতপার্থক্যের আলোচনা থাকলেও নির্বাচনী কার্যক্রমে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে কর্ণফুলী উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে সক্রিয় বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি তার নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি অতীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা তাঁকে ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর মাঠপর্যায়ে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলকভাবে বেশি চোখে পড়ছে। লিফলেট, গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এই আসনে নির্বাচনী সমীকরণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তাদের মতে, এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে ভোট বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে চাঙ্গা হচ্ছে এবং ভোট ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং নির্বাচনী পরিবেশের ওপর।
উল্লেখ্য, সরওয়ার জামাল নিজাম বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রচার-প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে এই আসনের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইএইচ