মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমদ এনডিসি বলেছেন, আমাদের মন্ত্রণালয় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমাদের নারীরা তাদের অধিকার ও ক্ষমতায়ন সম্পর্কে অনেক সচেতন। যে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের পেছনে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের মন্ত্রণালয় নারীদের যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে; যার সুফল জেলা ও উপজেলাসহ গ্রামের নারীরা পেতে শুরু করেছে।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমি আয়োজিত ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে সিনিয়র সচিব বলেন, “তোমরা যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফিমেইল একাডেমিতে এসে সম্পূর্ণ বিনা খরচে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করার পথে অগ্রসর হচ্ছ, আমি আশাবাদী তোমরা তোমাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে শুধু দেশে নয়, বিশ্ব জয় করবে। যতটুকু জানতে পারলাম, একাডেমির অসহায় ও এতিম মেয়েরা লেখাপড়ায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে দেশ–বিদেশে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখছে।”
তিনি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জামিল চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আজকের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এলাকার জনগণ আমাদের সেবামূলক কাজের সাথে আছে। আমাদের মন্ত্রণালয় অতীতের ন্যায় আগামীতে একাডেমির উন্নয়নে সহায়তা করে যাবে। তিনি সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে একাডেমির উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জামিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রিন্সিপাল নাজমা বেগমের পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছাম্মৎ হাসিনা আক্তার, প্রকল্প পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, সুনামগঞ্জের সহকারী কমিশনার দিপান্বিতা দেবী, সুনামগঞ্জের মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগের উপপরিচালক রেজাউল আলম, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা চিকিৎসক মাসুক আহমদ, দিরাই প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর, মাতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম।
সেমিনারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সুধীজন বক্তব্য রাখেন।
ইএইচ