জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই।
শনিবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকালের দিকে তিনি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ। তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজাদুল কবির আরজু যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এ কে এম আমজাদ আলী ও মা আনোয়ারা বেগম। গ্রামে জন্ম হলেও বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে শহরেই তার বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরেই তিনি স্বপ্ন বুনতে শিখেছেন। যশোর শহরে তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
আবৃত্তি, অভিনয়, গল্প-কবিতা লেখা, দেয়ালপত্রিকা প্রকাশসহ নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তারুণ্যেই গড়ে নিয়েছেন নিজের মনন ও সত্তাকে। পূর্ণপ্রাণ সেই সত্তা পরিপূর্ণ হয়েছে স্নেহ, মায়া, মমতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মানবপ্রেমে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি সচেতন তরুণ আরজু সুকান্তর কবিতার ‘আঠারো বছর বয়সে’ যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।
দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার সেই রণাঙ্গন থেকে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। নির্মম অত্যাচারের পর রাজাকাররা তাকে তুলে দেয় পাকবাহিনীর হাতে। হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের পর তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হলে তিনি মুক্তি পান।
১৯৭৫ সালে আরজু কয়েকজন মিলে প্রতিষ্ঠা করেন জাগরণী চক্র। সেই শুরু থেকে পথচলার অর্ধশত বছর পার করেছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন।
ইএইচ