টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের রাজ্যে আগ্রহ বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষে। কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ায় এ বছর গত বছরের তুলনায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ বছর সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে।
কম খরচে অধিক ফলন হয় সূর্যমুখীর। তৈলজাতীয় এই বীজ চাষ ভালো হওয়ায় সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে মধুপুরের কৃষক ও গ্রাম-বাংলার ফসলি জমি। ভোর হলেই মিষ্টি রোদে ঝলমল করে ওঠে সূর্যমুখী ফুলগুলো। দেখে মনে হয় সবুজ পাতার আড়াল থেকে মুখ উঁচু করে হাসছে সূর্যমুখী।
সূর্যমুখী দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এই ফুলের নাম সূর্যমুখী। সূর্যমুখীর বাগানে প্রায় প্রতিদিন বসে প্রজাপতি আর মৌমাছির মেলা। নয়নজুড়ানো এই দৃশ্যে খুশি কৃষক-কৃষাণী। পাশাপাশি এটি আকৃষ্ট করছে ফুলপ্রেমী মানুষকে। সূর্যমুখী শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এর রয়েছে অনেক গুণাবলি। বাজারেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। কৃষি প্রণোদনার আওতায় মধুপুরে চাষ হয়েছে তেলজাতীয় ফসল এই সূর্যমুখী ফুল।
আবহওয়া অনুকূলে থাকায় গতবারের মতো এবারও সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। তা ছাড়া বর্তমানে আকাশছোঁয়া তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ করবে এই হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখী। কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এরশাদ আলী জানান, সূর্যমুখী এমন একটি ফসল যার খরচ কম, লাভ বেশি। অন্যান্য তেলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুলের তেলের পুষ্টি অনেক। এ বছর মোটামুটি সূর্যমুখীর চাষ ভালো হয়েছে। কৃষকের সূর্যমুখী ফুল চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, আমি কৃষকদের সব রকম পরামর্শ দিয়ে থাকি। অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছে, আগামীতে মহিষমারা ইউনিয়নে সূর্যমুখীর আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছি।
মহিষমারা ইউনিয়নের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন জানান, আমি এ বছর দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে সময় কম লাগে। অল্প সময়ে ফসল পাওয়া যায়। লাভ অনেক বেশি। সরিষা ও সয়াবিন তেলের চেয়ে সূর্যমুখী তেলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। আর প্রতিদিন অনেক ফুলপ্রেমী আমার বাগান দেখতে আসে। আগামীতে আরও বেশি করে আমি সূর্যমুখী চাষ করব।
প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের পাশেই সানোয়ার ভাইয়ের সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আমি বাগানে ঘুরতে আসি। বাগানে প্রচুর ফুল ফুটেছে। দেখতে খুব ভালো লাগে। আমি ছাড়াও কলেজের অন্য শিক্ষকরাও ঘুরতে আসেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী ফুলে শতকরা ৯৯ ভাগ উপকারী ফ্যাট আছে। মানবদেহের জন্য উপকারী ওমেগা-৬, ওমেগা-৯ অলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে এতে। সরিষা ও সয়াবিনের চেয়ে সূর্যমুখী তেলে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ কম।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে মধুপুরে পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে বেশি সূর্যমুখী চাষ হয়। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৮ হেক্টর, এ বছর আবাদ হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে; যা গত বছরের চেয়ে ৬ হেক্টর বেশি।
মধুপুর উপজেলায় মোট ৪৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের তেল অন্যান্য তেল থেকে অনেক পুষ্টিকর।
ইএইচ