পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাসুদ রানা (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৫৩) নামে দুই সহোদর আটক হয়েছেন।
সোমবার রাতে পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া রেল পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে মাসুদ রানা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী পৌর শহরের হাইস্কুল রোড এলাকায় সম্প্রতি একটি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত দুই ভাইসহ আরও কয়েকজন নওশাদ আলীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। সোমবার অভিযুক্তরা সরাসরি গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিতে চাইলে এবং ভয়ভীতি দেখালে ভুক্তভোগী সেনা সদস্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানায় অভিযোগ করেন।
যৌথ বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে চাঁদাবাজির চেষ্টার কথা স্বীকার করায় পরবর্তীতে তাদের ভাঙ্গুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় নওশাদ আলী বাদী হয়ে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় সরকারি জমি দখল বাণিজ্যের সাথে জড়িত। শহরের রেল চত্বর এলাকায় অনেক দখলকৃত জমি কোটি টাকায় বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং এর আগে একাধিকবার মাদক মামলায় কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে ছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট মামলায় (মামলা নং-০৬, তারিখ: ২৬/০১/২৬) আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জেএইচআর