গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘জনগণের মুখোমুখি’ হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রংপুর-১ আসনের প্রার্থীরা। এ সময় তারা পিছিয়ে পড়া রংপুরকে বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত করে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
শনিবার সকালে গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে রংপুর-১ আসনের পাঁচজন প্রার্থী অংশ নেন।
সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জুর সঞ্চালনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন ও গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আখের মিঞা। সভাপতিত্ব করেন সুজনের গঙ্গাচড়া উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী রানা।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, জয়ী হলে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি রংপুর-১ আসনকে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন হিসেবে গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি এ আসনে ঘুষ, দুর্নীতি ও অপরাধ রোধসহ বেকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন।
ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা বলেন, জয়ী হলে তিনি ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে কাজ করবেন। একই সাথে হামলা ও মামলামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাসদ-মার্কসবাদীর আহসানুল আরেফিন ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মো. আনাস বক্তব্য দেন। তারা সংস্কার, বিচার ও সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বৈষম্যমুক্ত জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুরকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের দায়িত্ব সম্পর্কিত অঙ্গীকারনামা পাঠ করে শোনান অধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী রানা। এতে সংগঠনটির জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, তিস্তা নদীবেষ্টিত গঙ্গাচড়া উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইএইচ