ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তাপ বাড়ছে ‘আওয়ামী লীগের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ–৩ (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) আসনে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
এ আসনটি ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন ভোটার নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৩ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৮০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন। ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১০৮টি।
আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস বলছে, এ আসন থেকে শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী বিজয়ী হননি বললেই চলে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভিন্ন বাস্তবতায়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে।
গোপালগঞ্জ–৩ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ছয়জন দলীয় এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আলোচনায় থাকা তিন প্রার্থী হলেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়ায় প্রায় ৯৪ হাজার ভোটার রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। অনেক ভোটার মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে যাকে ভোট দেবেন, জয়ের পাল্লা তারই ভারী হবে। তবে দলীয় কাঠামোর কারণে এস এম জিলানীর অবস্থান তুলনামূলক শক্ত বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সমর্থন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের পক্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে।
একাধিক ভোটারের মতে, যদি হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে যায়, তবে তিনি বড় চমক দেখাতে পারেন। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত হাবিবুর রহমান হাবিবের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় নিজস্ব অবস্থান রয়েছে বলে দাবি ভোটারদের।
টুঙ্গিপাড়ার ভোটার মিঠুন বলেন, এ আসনে আদর্শের চেয়ে ভোটব্যাংক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের ভোট শেষ পর্যন্ত কার ব্যালটে পড়ে, সেটিই নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন আগামী সংসদ সদস্য।
সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ–৩ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটারদের আচরণ, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ এবং দলীয় বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান সবকিছু মিলিয়ে এ আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইএইচ