নাটোরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন মা-মেয়ে, আহত ২

নাটোর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগেই নাটোরের গুরুদাসপুরে নেমে এল এক মর্মান্তিক শোকের ছায়া। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া বিন্নাবাড়ী এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন মা ও তাঁর মাত্র দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যা। 

সোমবার ভোররাত প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আগুনে ঝলসে গেছেন পরিবারের আরও দুজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর রান্টু ইসলাম তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে প্রতিদিনের মতোই ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ আগুনের উত্তাপে ঘুম ভেঙে দেখেন ঘরের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বসতবাড়িতে।

প্রাণ বাঁচাতে রান্টু ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও ভেতরে আটকা পড়েন তাঁর স্ত্রী আতিয়া বেগম (২৭) এবং কোলের শিশু রওজা খাতুন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং কোলের সন্তানকে রক্ষা করতে আতিয়া হয়তো খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বগ্রাসী আগুন থেকে আর রক্ষা মেলেনি; শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই মা ও মেয়ের দেহ অঙ্গার হয়ে যায়।

খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে মা ও মেয়ের প্রাণহীন দেহ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন রান্টুর মা মর্জিনা বেগম (মনিকা বেগম)। তাঁর শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অপর সদস্য মোন্তার হোসেন।

আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বসতভিটা ছাই হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে গেছে রান্টু ইসলামের বসতঘরসহ মোট ৫টি ঘর, একটি ছোট মুদি দোকান, ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান আসবাবপত্র ও গোয়ালে থাকা ১২টি ছাগল (কিছু সূত্রে ১৮টির কথা বলা হয়েছে), যা ছিল পরিবারটির জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা শীতের রাতে গোয়াল ঘরে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে দেওয়া মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মা ও তাঁর শিশুকন্যার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দাফন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছি। এছাড়া তাঁদের ঘরবাড়ি পুনঃনির্মাণ ও চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

ঝাউপাড়া গ্রামে এখন বইছে মাতম। রান্টু সরকার তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আর আদরের সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা। এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা এই অপূরণীয় ক্ষতিতে বাকরুদ্ধ। একদিকে আসন্ন নির্বাচন আর অন্যদিকে পবিত্র রমজানের আগে এমন শোকাবহ ঘটনা পুরো উপজেলায় শোকের কালো ছায়া ফেলেছে।

এএন