চাঁদপুরের কচুয়া, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলায় জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজনের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক স্থানে এসব দণ্ডাদেশ প্রদান করেন দায়িত্বরত বিচারক ও নির্বাহী বিচারকরা।
চাঁদপুর ১ অর্থাৎ কচুয়া আসনের তেগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পেপার চাওয়ায় মো. হেলালকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক বিচারক (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আবদুল মান্নান।
একই কেন্দ্রে জাল ভোটের চেষ্টায় জড়িত অপর এক আসামি শিশু হওয়ায় তাকে কচুয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ওই শিশুর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। নির্বাচনকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
এদিকে চাঁদপুর ৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের শাহরাস্তিতে জাল ভোটের চেষ্টায় পিতা ও পুত্রসহ ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুপুরে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় সাইফুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে সাফায়েত হোসেনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে সাফায়েত হোসেনকে এক মাস এবং তাঁর বাবা সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী বিচারক নাসরিন বানু। এ ছাড়া খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাকালে মো. সজিব নামে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী বিচারক মো. মাসুদ রানা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান যে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে ৩ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কড়া নজরদারির মাধ্যমেই প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অপরদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে এসে মো. নাহিদ নামের এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী বিচারক হিমাদ্রী খীসা এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডিত নাহিদ ওই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।
জেএইচআর