মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলা-এ হরেকৃষ্ণপুর বাজার থেকে তেলিপুকুর পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজ ঘিরে একের পর এক অসংগতি সামনে এসেছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের পর কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে নির্মাণকাজ চলমান। এর মধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী প্রকল্পের চুক্তিমূল্য জানেন না বলেও জানিয়েছেন। এতে প্রকল্প তদারকি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নির্মাণাধীন সড়কে ভাঙাচোরা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, কাজের মান সন্তোষজনক নয় এবং এভাবে নির্মাণ হলে অল্প সময়েই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কে এমন মানহীন কাজ মেনে নেওয়া যায় না।
সড়কটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেরিন এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন বলেন, নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে সংশ্লিষ্ট উপকরণ সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজ চলমান রয়েছে। বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, আবারও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য কত— এ প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। একটি চলমান সরকারি প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অজ্ঞতা, প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মগুলো হলো, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজ বন্ধের নির্দেশ কার্যকর না হওয়া, প্রকল্প ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের অস্পষ্টতা ও তদারকিতে দুর্বলতা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কাজের মান যাচাই, প্রকল্পের ব্যয়ের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাঁদের মতে, উন্নয়নের নামে যদি অনিয়মই চলতে থাকে, তবে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে না। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এএন