সাঘাটায় পাউবোর প্রকল্প 

কয়েকহাজার জিও ব্যাগ লুট ও নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ

ইয়ামিন হাসান, সাঘাটা প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর অধীনে চলমান যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে জিও ব্যাগ ভরাটে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে লোকাল ও নিম্নমানের বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাট করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় পূর্বে ডাম্পিং করা ব্যাগ গুলোও লুট করেছে একটি মহল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সিরাজগঞ্জের ইউআই-এসআর (জেভি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে বরমতাইড় এলাকায় ‘গোবিন্দি-০১/২০২১-২০২২/লট-১ (ই-টেন্ডার নং-১০৮৬৬১৪)’ যমুনা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির নাম- “যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলাধীন কাতলামারী ও সাঘাটা উপজেলাধীন গোবিন্দি এবং হলদিয়া এলাকার রক্ষা”।

প্রকল্পের আওতায় ২৪ কোটি ২৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৪ টাকা চুক্তিমূল্যে বিআরই ডাওয়েল ৪.৭২০ কিলোমিটার থেকে ৫.০৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত মোট সাড়ে ৩শ’ (৩৫০) মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪২ মিটার প্রস্থের একটি ক্যানাল খনন এবং সেখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কর্মসূচি রয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ৬৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও এর মধ্যে ৩৪ হাজার ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে। বর্তমানে অবশিষ্ট ৩২ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য বস্তা ভরাটের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ’ ব্যাগ কাউন্টিং সম্পন্ন হয়েছে।

কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জিও ব্যাগে প্রায় ১৫০ কেজি শুকনো বালু ব্যবহার এবং বালুর মান ০.৮০ এফএম (ফাইনাস মডুলাস) হওয়ার কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের বালু ব্যবহার না করে অতি নিম্নমানের লোকাল বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাট করা হচ্ছে। এছাড়াও ক্যানাল খননকালে পূর্বের ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ গুলো অক্ষত অবস্থায় রাখার কথা থাকলেও দায়িত্ব অবহেলায় সিংহভাগ ব্যাগ লুট করেছে বিভিন্ন মহল।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভালো মানের বালু দিয়েই জিও ব্যাগ ভরাট করছি।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজালালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আজ (শনিবার) টেস্ট রেজাল্ট এখনো আসেনি। তবে পূর্ববর্তী টেস্টে সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত বালুর মান ভালো পাওয়া গেছে।” তবে লুট হওয়া জিও ব্যাগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সায়েম’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয় নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, টেস্ট রিপোর্ট চূড়ান্ত হওয়ার আগেই জিও ব্যাগ ভরাট ও ডাম্পিং করা হলে তা ভবিষ্যতে নদী রক্ষা কাজে কার্যকর হবে না। তাদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে নিম্নমানের লোকাল বালু ব্যবহারের মাধ্যমে কাজে গাফিলতি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও মান পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ এবং যথাযথ তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

এএন