আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলাবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুর চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে সালথার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দুই উপজেলার যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে দুই পক্ষের নেতাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ময়েনদিয়া ও খারদিয়া গ্রুপের বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর