মুকুলের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে মহেশপুর, ভালো ফলনের আশা

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এখন ভোরের হাওয়ায় মিশে আছে আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রাস্তার ধারে, পুকুরপাড় কিংবা বিস্তীর্ণ বাগান সবখানেই ডালভর্তি হলদে-সবুজ মুকুলের ছড়াছড়ি। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতি যেন জানিয়ে দিচ্ছে, আর ক’মাস পরেই পাকা আমে রঙিন হবে চারদিক। 

সকালবেলায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক গাছে পাতার চেয়ে মুকুলই বেশি চোখে পড়ে। বাতাসে মৌ মৌ ঘ্রাণ, চারপাশে ব্যস্ত মৌমাছির আনাগোনা সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন মুকুল মানেই ভালো ফলনের ইঙ্গিত।

বাংলা সাহিত্যে গ্রামবাংলার আমের কথা উঠলেই মনে পড়ে কবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার সেই চিরচেনা আবহ। মহেশপুরের গ্রামগুলোতেও এখন আমকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন। একসময় আমের জন্য আলাদা পরিচিত ছিল রাজশাহী অঞ্চল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝিনাইদহ জেলাও স্থানীয়দের কাছে ‘আমের দ্বিতীয় রাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বিশেষ করে মহেশপুর উপজেলায় বাণিজ্যিক আমচাষের পরিধি বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন আমবাগান। বড় গাছের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি গাছেও এ বছর তুলনামূলক বেশি মুকুল এসেছে বলে জানান চাষিরা। হিমসাগর, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের গাছে ইতোমধ্যে মুকুল দেখা দিয়েছে। পুরোপুরি ফুল ফোটাতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

মুকুল আসার পর থেকেই বাগান মালিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই প্রতিরোধে স্প্রে করছেন। চাষিদের মতে, এ সময় ছত্রাক বা পোকার আক্রমণ হলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই সতর্কতা জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, বর্তমানে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে আমচাষ হচ্ছে এবং কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে অতিরিক্ত কুয়াশা, অকালবৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছেন চাষিরা।

শ্যামকুড় ইউনিয়নের গুড়দাহ ও ভবনগর গ্রামের বাগান মালিকরা বলেন, গাছভর্তি মুকুল দেখলেই মন ভরে যায়। এখন শুধু দরকার অনুকূল আবহাওয়া। মধুমাসের পুরো স্বাদ পেতে এখনও সময় আছে, কিন্তু তার আগেই মুকুলের সুবাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মহেশপুর। আশা একটাই ডালে ডালে ঝুলবে রসাল আম, আর সেই আমকে ঘিরেই সচল থাকবে গ্রামের অর্থনীতির চাকা।

এএন