শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় ওই যুবকের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং একটি চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, রোববার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সেলিম পাইক ইকুরি এলাকার একটি মাছের ঘেরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঘেরের কর্মচারীরা তাকে ‘মাছ চোর’ সন্দেহে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। প্রথমে তাকে পানিতে চুবিয়ে পাড়ে আনা হয় এবং সেখানে মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে ঘেরের মালিক ও বর্তমান শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহীন মাদবর ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলিমের হাত বেঁধে ফেলেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শাহীন মাদবর মোটা বাঁশের লাঠি দিয়ে সেলিমের দুই পায়ে সজোরে পেটাচ্ছেন।
সেলিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। নির্যাতনের একপর্যায়ে সেলিমের ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথায় ও চোখে গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের চাপে অভিযুক্তরা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
আহত সেলিম পাইক জানান, তিনি মাছ চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না। ঘেরের মালিক শাহীন মাদবর ও তাঁর লোকজন তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। এই বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সেলিমের ভাই জয়নাল আবেদীন বলেন, সেলিম কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং অত্যন্ত গরিব মানুষ। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত শাহীন মাদবরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ জানান, শাহীন মাদবর তাঁদের দলের কেউ নন। অনেকে ব্যানার-পোস্টারে পদের নাম লিখলেও দলীয়ভাবে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, গতকাল জরুরি বিভাগে সেলিম পাইককে অজ্ঞাত লোকজন ভর্তি করে চলে যায়। তাঁর ডান পা ভেঙে গেছে এবং চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফীন বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে এবং এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেএইচআর