কেন্দুয়ায় টিসিবির পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন নিম্নআয়ের মানুষেরা

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভা প্রাঙ্গণে টিসিবি ট্রাকের জন্য শতশত মানুষ অপেক্ষা করছে। অবশেষে ট্রাক না আসায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। রোববার দুপুরে কেন্দুয়া পৌরসভা প্রাঙ্গণে গিয়ে এরকম চিত্র দেখা যায়। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে একটি টিসিবি ট্রাক এসে মাত্র ৪০০ জন দরিদ্র মানুষের মাঝে পণ্য বিতরণ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এরপর আর কোনো ট্রাক আসেনি, আসার সম্ভাবনাও নেই। বিষয়টি জানার পরও অনেকের মনে ছিল ক্ষীণ আশার আলো, হয়তো আরও একটি ট্রাক আসতে পারে। সেই আশাতেই মানুষ তীর্থের কাকের মতো বসে ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এদিকে কেউ কেউ খবরের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী অন্য স্পট কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের দিকেও। কিন্তু সেখানেও মেলেনি কোনো সুখবর।

চলমান দ্রব্য মূল্যের বাজারে যেসব দরিদ্র মানুষের টিসিবি কার্ড নেই, তাদের জন্য আজকের এই ট্রাকসেল ছিল এক প্রকার পরমপ্রাপ্তি। অথচ মাত্র ৪০০ জনের মধ্যে পণ্য বিতরণ করে কার্যক্রম শেষ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

টিসিবি থেকে পণ্য নিতে আসা পৌরসভার সাউদপাড়ার বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, আমরা খবর পেলাম সকালেই টিসিবির পণ্য দিয়ে ট্রাক চলে গিয়াছে। তবে যে পরিমাণ টিসিবির পণ্য দেয়া হয়েছে, তা কেন্দুয়া পৌর এলাকায় চাহিদার তুলনায় অনেক কম। অনেকেই এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না। তারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চাহিদা বিবেচনায় কেন্দুয়ায় পুনরায় টিসিবি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

জনৈক সীমা আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লেখেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক টিসিবি ট্রাকের পণ্য আরও বাড়ানো উচিত। স্বল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে যারা টিসিবি সুবিধা পায়না তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনে কিছু হলেও উপকৃত হবে।

পৌরসভায় টিসিবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমাদেরকে যে পরিমাণ টিসিবির পণ্য সরকার থেকে দেয়া হয়েছে, তা আমরা নিয়মানুযায়ী নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখানে টিসিবির পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। যার জন্যে অনেকেই পণ্য না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এইজন্য এখানে এতো মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। পরবর্তী আমরা এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানাবো নলে তিনি জানান। 

এব্যাপারে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জিয়াউর রহমান জীবন বলেন, দ্রব্যমূল্যের এই চরম ঊর্ধ্বগতির সময়ে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও পরিকল্পিত করা প্রয়োজন। তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষের একটু হলেও কষ্ট লাগব হবে বলে তিনি মনে করেন। 

উল্লেখ্য, কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিসিবি পণ্য বিক্রয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য নোটিশের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে যে, আজ রোববার কেন্দুয়া উপজেলায় ৫ টি স্পটে ট্রাকসেলের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রয় করা হবে। 

স্পট সমূহ হল, কেন্দুয়া পৌরসভা প্রাঙ্গণ, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ, আশুজিয়া ইউনিয়নের রামপুর বাজার, সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজার এবং চিরাং ইউনিয়নের চিরাং বাজার। 

যেসব পণ্য সমূহ দেয়া হবে, চিনি ১ কেজি-৮০ টাকা, মশুর ডাল ২ কেজি-১৪০ টাকা, ছোলা ১ কেজি ৬০ টাকা, তেল ২ লিটার-২৩০ টাকা, খেজুর ৫০০ গ্রাম- ৮০ টাকা। উল্লেখ্য প্রতিটি স্পটে ৪০০ উপকারভোগীর মধ্যে টিসিবি পণ্য বিক্রয় করা হবে।

এএন