মাগুরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দাখিলের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি কুচক্রী মহল তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে পৌরসভার কার্যক্রম, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ভুয়া তথ্য ব্যবহার করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই অভিযোগপত্রে পৌরসভার দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির নানা দাবি তোলা হয়েছে। প্রেরক হিসেবে কবিরুল ইসলাম (কলেজ পাড়া) ও মোহন মিয়া (সাতদোহাপাড়া) নামে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কেউ এই অপকর্ম করেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, পরিচয় গোপন করে অন্যের নাম ব্যবহার এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করতে এমন পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি-না, তা এখন গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে এবং জালিয়াতি প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম ও টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে যারা মিথ্যা অভিযোগ করে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। পৌরসভাকে কুক্ষিগত করার যেকোনো হীন প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া অভিযোগ দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত করতেই এমন চক্রান্ত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে এই মিথ্যাচারের নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অভিযোগপত্রের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
জেএইচআর