ফাল্গুন মাসে যখন প্রকৃতিতে বসন্তের রঙ ছড়িয়ে পড়ার কথা, তখন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। গাছে গাছে শিমুলের রক্তলাল ফুল আর কোকিলের ডাকের মধ্যেও ভোরের প্রকৃতি ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে।
গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ঘন কুয়াশায় সকাল পর্যন্ত আচ্ছন্ন থাকে চারপাশ। কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অনেক চালককে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ফাল্গুন মাসে এমন কুয়াশা অস্বাভাবিক। জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মুতালিব বলেন, “ফজরের সময় উঠে দেখি চারদিকে ঘন কুয়াশা। এ সময় তো সাধারণত এমন কুয়াশা থাকে না। আগে ফাল্গুনে এমন দৃশ্য দেখিনি।”
পৌর এলাকার স্বনির্ভর বাজারসংলগ্ন ভৈরব–কিশোরগঞ্জ সড়কে গাড়িচালক আল-আমীন বলেন, “ভোরে সড়কে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে গাড়ির লাইট জ্বালিয়ে চলতে হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখছেন। কটিয়াদী সরকারি কলেজের পরিবেশ, প্রকৃতি ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক শাহ আলম বলেন, “প্রকৃতির স্বাভাবিক ঋতুচক্রে পরিবর্তন এখন স্পষ্ট। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। গাছপালা কমে যাওয়া, নদী-খালে পানির ঘাটতি এবং তাপমাত্রার ওঠানামা এর অন্যতম কারণ।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের সময় ও ধরনে পরিবর্তন আসছে। এর প্রভাব হিসেবে ফাল্গুন মাসেও কুয়াশার মতো শীতকালীন আবহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ঋতুর এমন অস্বাভাবিক আচরণ ভবিষ্যতে কৃষি ও জনজীবনে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এএন