মাগুরা হর্টিকালচারের হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা  প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

হর্টিকালচার সেন্টার, মাগুরা এ উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এত বিভাগীয় শাস্তি হিসেবে একটি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রাখা হযেছে।

মাগুরা হর্টিকালচার উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে আমার হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এটি স্পষ্ট আর্থিক অনিয়ম। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর ও খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়। কমিটির কাছে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও সূত্রটির দাবি। 

তবে অভিযুক্ত খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত টিম গঠন করে আমাকে বাঘেরহাট এলাকায় বদলি করা হলেও অভিযুক্ত মাগুরা হর্টিকালচার উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. শাহিনুজ্জামানকে আইনের আওতায় আনা হয়নি, সে তো মাগুরা একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িত রয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রয়োজন হলে পুনরায় তদন্ত হোক, আমি তা স্বাগত জানাই। তাছাড়া আমার বাড়ি মাগুরা আমি তো মাগুরা দু একদিন পরপর যাবই এটা সাধারণ বিষয়। 

ডিডি হর্টিকালচার যশোর দীপঙ্কর দাস বলেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দেখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত আছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত অফিস সময়ে প্রধানসহ একাধিক কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কখনো মূল ফটক বন্ধ রেখে কার্যক্রম পরিচালনার কথাও শোনা যায়।

তাদের দাবি, আম, জাম, কাঁঠালের বাইরে নতুন বা উন্নত জাতের ফলদ চারা উৎপাদনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকারি বরাদ্দ ও বিক্রির তথ্য কাগজে ইতিবাচক দেখালেও মাঠপর্যায়ে সেবার মান সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চারা, কলম, সার ও কীটনাশক বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সময়ে চারা-কলম বিক্রি থেকে সরকারি রাজস্বে জমা হয়েছে ৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। আয়ের এ পরিসংখ্যান ইতিবাচক হলেও উৎপাদন বৈচিত্র্য, তদারকি ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এ ছাড়া আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতা ও উপস্থিতি তদারকি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। 

এএন