রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। 

রোববার বেলা ১২টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন।

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লাহর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে। 

তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কাজী শাহেদ, সাবেক সভাপতি আবু কাওসার মাখন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলার ব্যুরো প্রধান আমজাদ হোসেন শিমুল, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রাব্বানী এবং রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির মিজানুর রহমান টনি। এছাড়াও রাজশাহী প্রেসক্লাব, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

রাজশাহীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে বেশ কিছু দিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও তাঁর সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।

এরই জের ধরে গতকাল শনিবার (০৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী ক্লাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।

হামলার একপর্যায়ে সুরুজ আলী নামের এক সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি তা হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তাঁর উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেখানে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ নামীয় ৬ জন এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেএইচআর