চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির অভিযোগে সালিশি বৈঠকে দেওয়া অপমানজনক দণ্ড সইতে না পেরে মাসুম (১৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের মিজি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার থেকেই মাসুমকে কয়েক দফায় মারধর ও শাসানো হয়। রোববার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে এক সালিশ বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে সবার সামনে ‘নাকে খত’ দেওয়ানো হয় এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সালিশের নামে মাসুম ও তার পরিবারকে চরমভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
নিহত মাসুমের মা মৌসুমী বেগম জানান, হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে বারবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়ায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং বিকেলে গলায় ফাঁস দেয়। এমনকি আমাদের ঘরবাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, চুরির অভিযোগ আসার পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়েছিল। সেখানে জরিমানা ও নাকে খত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সন্ধ্যায় তার আত্মহত্যার খবর পাই।
তবে বাড়ির অভিভাবক ও সাবেক ইউপি সদস্য আ. গনি জানান, তাকে না জানিয়েই এই বিচার কার্য পরিচালনা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেএইচআর