বদলির আদেশ উপেক্ষা করে চাটখিলে বহাল তবিয়তে ডা. মোস্তাক

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ (কোড নং-১১০০২২) সরকারি বদলির আদেশ উপেক্ষা করে একই স্থানে একই পদে বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগে আছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (পার-২) ডা. কামরুল হাসানের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে বান্দরবান ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আরএমও হিসেবে যোগদানের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে বান্দরবানে যোগ দিতে হতো।

কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পের হওয়ার ১০ দিন পরও তিনি বদলির আদেশ মানেননি। বরং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এখনো চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অফিস চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দাপ্তরিক কাজের চেয়ে ঢাকা, জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে ‘তদবির’ করতে বেশি সময় দেন, যাতে যেকোনো উপায়ে বান্দরবানের বদলি ঠেকানো যায়। গোপন সূত্র জানায়, তিনি বান্দরবানে যোগদানের পরিবর্তে নোয়াখালী ম্যাটস বা লক্ষ্মীপুরের যেকোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুবিধামতো পদায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর ধরে ডা. খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ চাটখিলে কর্মরত আছেন। এই সময়ে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে একই উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বহাল তবিয়তে ছিলেন। অভিযোগ আছে, স্থানীয় আওয়ামী সমর্থকদের সহযোগিতায় তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

তাঁর ৯ বছরের চাকরীর সময়কালে চাটখিল ও পাশ্ববর্তী রামগঞ্জের হাসপাতালে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করেছেন। এতে কিছু ক্ষেত্রে রোগীর জরায়ু কাটা ও মাতৃ-মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি বিভিন্ন সময় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও তিনি প্রভাবশালীদের মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে দায়িত্ব থেকে বাঁচেছেন।

ডা. খোন্দকার মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে এড়িয়ে যান।

নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমিকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এএন