এমপি সালেহী

ভিজিএফ কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অতি দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকালে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। সভায় জামায়াত, বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী বলেন, উলিপুরে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এলাকাবাসী জানতে পারবে কোন ওয়ার্ডে কতটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির খাদ্যশস্য যেন সঠিকভাবে প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৮৩ হাজার ৩৭০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে মোট ৮৩৩.৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উলিপুর পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫টি কার্ডের বিপরীতে মোট ৪৬.২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যেসব পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং নিয়মিত খাদ্যসংকটে ভুগছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিটাবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই এমন পরিবার, দিনমজুরের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবার, মহিলা শ্রমিক বা ভিক্ষাবৃত্তির আয়ে চলা পরিবার, উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্যবিহীন অসচ্ছল পরিবার, স্কুলগামী শিশুদের উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয় এমন পরিবার, উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই এমন পরিবার, স্বামী পরিত্যক্তা বা তালাকপ্রাপ্ত অসচ্ছল নারীর পরিবার, অসচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার, ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাবঞ্চিত পরিবার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্য ও অর্থসংকটে থাকা পরিবার।

এ ছাড়া যেসব পরিবারের সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দুই বেলা খাবারও জোগাড় করতে পারেন না, সেসব পরিবারকেও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

এএন