মাদারীপুর পৌর শহরের লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার নতুন মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে আলমগীর হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার রাতেও একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা ভয়াবহ সংঘর্ষ চলে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমার বিকট শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সে সময় একাধিক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছিল।
‘হাসান মুন্সির ভাই শাকিল মুন্সি হত্যার পর থেকেই এই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটছে’ বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান "সকালের সংঘর্ষে একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।"
এএন