রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামে এক অসহায় ভ্যানচালক পরিবারের পাটের ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খালকুলা গ্রামের মৃত আহমদ আলী মোল্লার দুই ছেলে আফজাল মোল্লা ও আলম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে মামলা পরিচালনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে আদালত যাচাই-বাছাই শেষে জমিটির মালিকানা তাদের পক্ষে রায় দেন। আদালতের রায় অনুযায়ী তারা জমির খাজনা পরিশোধ করে মিউটেশন সম্পন্ন করেন এবং জমির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই জমিটি পাঞ্জু মন্ডল হাফিজ উদ্দিন ও হোসেন মৃধার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পুরোনো দলিলপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, দলিলে মৃত আহমদ আলী মোল্লার স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ ভোটার আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে জানা যায়, আহমদ আলী মোল্লা স্বাক্ষর করতে পারতেন না; তিনি টিপসই দিতেন। বিষয়টি আদালতে উপস্থাপিত হলে আদালত তা যাচাই-বাছাই করে আহমদ আলী মোল্লার দুই ছেলে আফজাল মোল্লা ও আলম মোল্লার পক্ষে রায় প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায়ে বৈধ মালিকানা পাওয়ার পরও জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি আফজাল মোল্লা ও আলম মোল্লার পাটের ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুরো ক্ষেতের পাটগাছ নষ্ট হয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাঞ্জু মন্ডল জোরপূর্বকভাবে পাটের ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করেন এবং পরে জমিটি দখলে নেন। পরবর্তীতে সেই দখলকৃত জমিতে জোরপূর্বকভাবে পেঁয়াজ চাষও করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের পাঞ্জু মন্ডল, তার ছেলে আকমল মন্ডল (৪০), ইকমাল মন্ডল (৩৬), মৃত আইনুদ্দিন শেখের ছেলে রমজান শেখ এবং নুর খানের ছেলে দেলোয়ার খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। মৃত আহমদ আলী মোল্লার বড় ছেলে আফজাল মোল্লা পেশায় একজন ভ্যানচালক এবং তিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অপরদিকে ছোট ছেলে আলম মোল্লা দিনমজুরির কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই পরিবারের সংসার পরিচালনা করেন। তাদের একমাত্র আয়ের উৎস এই জমি ও ফসল। কিন্তু পাটের ক্ষেতে বিষ প্রয়োগের কারণে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এ ঘটনায় আফজাল মোল্লা বালিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহন রায়হান বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। যদি কোর্টের রায় অনুযায়ী তারা মিউটেশন করে খাজনা পরিশোধ করে থাকেন, তাহলে সম্পত্তি তাদেরই। আমার কাছে অভিযোগ এলে কাগজপত্র যাচাই করে ন্যায়ের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত পক্ষের একজন ইকমাল হোসেন বলেন, “আমার বাবা হাফিজউদ্দিন ও হোসেন মৃধার কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন। তখন আমাদের ওই জমিতে কে বা কারা পাট বুনেছিল তা আমরা জানতাম না। পরে আমরা পাটক্ষেত পরিষ্কার করে সেখানে অন্য ফসল লাগিয়েছি।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এএন