বেনাপোল বন্দরে আবারও ৬ কোটি টাকার ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য জব্দ

এম এ রহমান, যশোর প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১২:০৩ এএম

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আটককৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার রাতে বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে ভারতীয় একটি ট্রাকে (ডই-১৫, ই-৮৫৯৩) তল্লাশি চালিয়ে এই চালানটি আটক করা হয়।

কাগজপত্রে পণ্যগুলো ‘বেকিং পাউডার’ হিসেবে ঘোষণা থাকলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের গার্মেন্টস সামগ্রী ও কসমেটিক্স উদ্ধার করেন।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ বেকিং পাউডার ঘোষণা দিয়ে চালানটি ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে আনে। এর সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের ‘মেসার্স হুদা ইন্টারন্যাশনাল’। পণ্যগুলো ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-৯২৪৭ নম্বরের একটি ট্রাকে লোড দেওয়ার জন্য গেট পাসও করা হয়েছিল। তল্লাশির সময় শেড ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আরিফুল ইসলাম ও নুর আহম্মেদ।

আটককৃত চালানের ১০৮টি প্যাকেজ থেকে ৬ হাজার ৫৩০ পিস শাড়ি, ৫৮৮ পিস থ্রি-পিস, ৩০০ পিস টু-পিস, ৫২০ পিস ওড়না, ২৬০ কেজি বেবি ওয়্যার, ৫০৯ কেজি ফেস ওয়াশ, ৬৫ কেজি বডি লোশন, ৬০ কেজি জর্দা তৈরির কেমিক্যাল এবং ২২৩ কেজি বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, কাগজপত্রে ১৩০ বস্তা বেকিং পাউডারের কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ১০৮ বস্তা; বাকি ২২ বস্তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, "মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা রাজস্ব আদায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি দেখা গেছে।"

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বেকিং পাউডারের আড়ালে এসব দামী পণ্য আনা হয়েছিল। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স ও সিএন্ডএফ এজেন্ট হুদা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেএইচআর