গাজীপুরে জিএমপির উদ্যোগে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উদ্যোগে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে বিকাল ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার।

উল্লেখ্য, মো. আলী হোসেন ফকির ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশের মহাপরিদর্শক (Inspector General of Police-IGP) পদে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি (Additional Inspector General) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রায় ৩২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে ২০টির বেশি বস্তি ও বিভিন্ন শ্রমিক কলোনি রয়েছে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাই, মাদক ও যানজটসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। বর্তমানে পুলিশ সদস্য সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জিএমপি কমিশনার শুভেচ্ছা বক্তব্যে জানান, বিভিন্ন অভিযানে ইতোমধ্যে ৫৫৩ জন মাদক কারবারি ও প্রায় ৪০০ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর রেলগেট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৬৫টি ট্রেন চলাচল করায় যানজটের চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ও পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের অভাবও সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিকভাবে অপরাধ নির্মূলে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। 

গাজীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক আহমেদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করলে পুলিশের কাজ আরও সহজ হবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকও বক্তব্য রাখেন।

সুধীজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ, মাওলানা মুফতি নাসিরুদ্দিন, গাজী সালাহউদ্দিন, গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক দেলোয়ার হোসেন, ভিপি আসাদ, গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামসুল হক ভূঁইয়া, ইসরাক আহমেদ সিদ্দিকী, আহাম্মদ আলী রুশদী, বশির উদ্দিন, আব্দুল মতিন সিরাজী, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, স্পারো অ্যাপারেলসের মালিক শোভন ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং নির্মূল, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, শহরের যানজট নিরসন, ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, টঙ্গী বাজার, আমতলী ও নিমতলী এলাকায় মাদকের আস্তানা উচ্ছেদে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় শান্তিরক্ষা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যানজটের কারণে শুধু ঢাকাতেই মাসে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, দেশের ৯৯ শতাংশ শ্রমিক নিরীহ, মাত্র ১ শতাংশ শ্রমিক বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ সমস্যার সমাধান আলোচনা টেবিলে বসেই করা সম্ভব। রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ড্রাইভারদের ডোপ টেস্ট চালু করা হবে।

আইজিপি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ৮৬৬ জন মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে, যা উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম। তাই মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং থানার রিসিপশন ডেস্ককে আরও পেশাদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে আইন মেনে চলা ও সমাজ থেকে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এএন