নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হিরণপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কিউ. জেড. এম. রুহুল কুদ্দুস নওয়াব মাস্টারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ১০ মার্চ নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্র সওজের জায়গায় নির্মাণাধীন স্থাপনা সরিয়ে বা ভেঙে ফেলার জন্য রুহুল কুদ্দুস নওয়াব মাস্টারকে পাঁচ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করেন।
নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের হিরণপুর এলাকায় রুহুল কুদ্দুস নওয়াবের বাসা। তার বাসার পাশেই ধান-চাল ব্যবসায়ী ও মিলার মো. জজ মিয়ার তিনতলা ভবন রয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস নওয়াবের ছেলে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সোহেল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সম্পাদক ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা প্রকৌশলী সোহেলের প্রভাব দেখিয়ে রুহুল কুদ্দুস নওয়াব মাস্টার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ময়মনসিংহ (ডিসি অফিস)-রঘুনাথপুর-নেত্রকোণা-ঠাকুরাকোনা-মোহনগঞ্জ-জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-৩৭০) ৩০তম কিলোমিটার এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন।
এ সময় তিনি সওজের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী জজ মিয়ার বাড়ির সীমানার ভেতরেও নির্মাণকাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জজ মিয়া বাধা দিলে নওয়াব মাস্টারের লোকজন তাকে মারধর করে বলে দাবি করেন তিনি।
হিরণপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. জজ মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি বাজারে ধানের ব্যবসা করছি। আমার বাসার সীমানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বাবা জোর করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তারা কাজ করতে গিয়ে আমার বাসার কিছু অংশ ভেঙে ফেলেছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধরও করা হয়েছে।”
পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুর বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় নওয়াব মাস্টারের লোকজন স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সেখানে ইট ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই সরকারি জায়গা ও অন্যের সীমানা দখল করে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে মেহেদী হাসান সোহেলের পরিবার। বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা জঘন্য কাজ। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সম্পাদক ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সোহেল বলেন, “আমার বাবার ক্রয় করা জায়গায় নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। বিএনপির কিছু লোকজন আমার মানহানি করতেই জজ মিয়ার পক্ষ নিয়ে তাকে সহায়তা করছে। আমরা সরকারি বা অন্যের কোনো জায়গা দখল করিনি। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোনো কাজও করিনি।”
এ বিষয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও হিরণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কিউ. জেড. এম. রুহুল কুদ্দুস নওয়াব মাস্টার বলেন, “আমি সরকারি জায়গা দখল করিনি, নিজের জায়গায় কাজ করছি।” সড়ক বিভাগের নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “নোটিশ পাওয়ার পর কিছু অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছি।”
নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন কোনো অপকর্ম করতে না পারে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কার ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আল নূর সালেহীন আমার সংবাদকে জানান, নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ বা ভেঙে ফেলার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এএন