মাগুরায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা  প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

মাগুরা সদর উপজেলার ৬ নম্বর রাঘবদাইড় ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণকে ঘিরে অনিয়ম, বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বৈধ ভিজিএফ কার্ড হাতে নিয়েও অনেক হতদরিদ্র নারী-পুরুষ চাল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। একই সারিতে দাঁড়িয়ে কেউ চাল পেলেও অন্যরা বঞ্চিত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এটি কেবল সরবরাহ সংকট নয়, বরং বাছাই করে বিতরণের ফল। ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সী এক নারী বলেন, আমার সামনে যারা ছিল তারা চাল পেল, আমাকে বলা হলো চাল শেষ। তাহলে কার্ড দিল কেন?

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কিছু মানুষ চাল না পেয়েই অপেক্ষা করার সময় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে বস্তাভর্তি চাল গাড়িতে তুলে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেখানে কার্ডধারীরা চাল পাচ্ছে না, সেখানে কীভাবে বিতরণ শেষ দেখিয়ে চাল সরানো হলো? এই ঘটনাকে অনেকেই বরাদ্দকৃত চাল পুরোপুরি বিতরণ না হওয়ার প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রাঘবদাইড় ইউনিয়নে ৫ হাজার ১০০ জনের জন্য প্রায় ৫১ টন চাল বরাদ্দ ছিল। তবে মাগুরা জেলায় মোট কত টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। 

এ বিষয়ে ইউপির চেয়ারম্যানের পরিবর্তে দেয়া ট্যাগ অফিসারের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হতে জেলা প্রশাসক, মাগুরাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এতে করে জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠরা একাধিক স্লিপের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করেছেন। ফলে তালিকাভুক্ত প্রকৃত দরিদ্রদের একটি অংশ বঞ্চিত হয়েছেন। মাগুরা সদর ইউএনও মেহেরুন্নাহার জানিয়েছেন, ৫০ জনের বেশি মানুষ চাল না পাওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, বঞ্চিতদের মধ্যে পুনরায় চাল বিতরণ করতে হবে।

এএন